শিশুদিবস

shishu

ইন্দ্রশেখর

আজ ভারতবর্ষে শিশুদিবস। সেই উপলক্ষে পৃথিবীর নানা দেশে বিভিন্ন দিনে শিশুদিবস পালনের খবর আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের পেছনে থাকা সুখদুঃখের ইতিহাসের খবর দেয়া গেল। সে স্মৃতি কখনো আনন্দের, আবার কখনো শিশুদের ওপরে নির্মম কোন অবিচারের লজ্জাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় তার দেশের মানুষকে।

শিশু দিবস প্রথম পালিত হয়েছিল ১৮৫৬ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় রবিবারে। সেদিন চেলসির বিশ্বজনীন গির্জার পাদ্রি লিওনার্দ শিশুদের জন্য একটা বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করেন আর দিনটার নাম দেন গোলাপ দিবস।

পরবর্তী সময়ে দিনটার নাম হয় পুষ্প রবিবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই দিনটাকে শিশুদিবস হিসেবে পালন করে।

এর পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের দ্বিতীয় রবিবারটাকে শিশুদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

১৯৪৯ সালের ৪ নভেম্বর তারিখে আন্তর্জাতিক নারী গণতান্ত্রিক সঙ্ঘ তার মস্কো অধিবেশনে ১ জুন তারিখটাকে আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেবার পর থেকে বহু দেশেই সে দিনটাকে শিশুদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন তারিখকে শিশুদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সেইভাবেই তার পালন করে। এর মধ্যে সবচেয়ে চালু হল রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাবিত ২০ নভেম্বর তারিখের বিশ্বজনীন শিশুদিবস। এর সূচনা করেছিল বৃটেন, ১৯৫৪ সালে। ১৯৫৯ সালের এই দিনটাতে রাষ্ট্রপুঞ্জ তার শিশু অধিকার ঘোষণার সনদ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন দিনে শিশুদিবস পালন করে। সেদিন শিশুদের নিয়ে নানা উৎসব হয়। অনেক ক্ষেত্রেই কোন কোন দেশের ইতিহাসের কোন না কোন গুরুত্বপূর্ণ সুখদুঃখের অধ্যায়ের খবর আছে জড়িয়ে থাকে তার শিশুদিবস নির্বাচনের ক্ষেত্রে। এমন কিছু নির্বাচিত দেশের শিশুদিবস ও তার কারণ নীচে সাজিয়ে দিলামঃ

১৪ নভেম্বরঃ

ভারতবর্ষে, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন ১৪ নভেম্বরে শিশু দিবস পালন করা হয়। শিশুদের প্রতি জওহরলাল নেহরুর গভীর ভালোবাসা ও তাদের জন্য করে যাওয়া অনেক মহৎ কাজের জন্যই শিশুদের প্রিয় ‘চাচা নেহরু’র জন্মদিনে শিশুদিবস পালিত হয় আমাদের দেশে

১৭ মার্চঃ

বাংলাদেশ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মদিবস)

৪ এপ্রিলঃ

চিন, হংকং, তাইওয়ান । এ দিনটায় ১৯৪৯ সালে চিনা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রথমে তা প্রাইমারি স্কুলে  ও পরে পূর্ণদিবস ছুটি হিসেবে স্বীকৃত হয়। তাইওয়ানে এ নিয়ে  মজার ঘটনা আছে।ওখানে এ দিনটা যৌথ শিশু ও নারীদিবস হিসেবে পালিত হয়। আসলে গোড়াতে শুধু শিশুদিবস থাকলেও , সে দেশে শিশুদের মায়েরা শিশুদের সঙ্গে সে উৎসবে একা ছাড়বেন না। উলটে তাদের সাথে নিজেরাও উৎসবে ভাগ নেবার জন্যে এমন চাপাচাপি করেন যে সরকার বাধ্য হয়ে শেষমেষ ১৯৯১ সাল থেকে এটাকে যৌথদিবস বানিয়ে দেয় যাতে মায়েরাও ছোটোদের সাথে একইসঙ্গে ফূর্তি করতে পারেন ওদিনটা ।

২৩ এপ্রিলঃ তুর্কি

১৯২০ সালের এই দিনটিতে তুর্কি সংসদ প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯২৭ থেকে এ দিনটা তাঁরা শিশুদিবস হিসেবে পালন করেন।

১ জুনঃ

পোল্যান্ডঃ ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত এই দিনটি সে দেশে গ্রীষ্মকালের প্রথম দিন হিসেবে স্বীকৃত। উষ্ণঋতুর আগমনকে তাঁরা বরণ করে নেন শিশুদিবস পালন করে।

১ জুলাইঃ

পাকিস্তান । আগে সে দেশে ১লা জুলাই শিশুদিবস পালিত হত। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে পেশোয়ারের সেনা স্কুলে  উগ্রপন্থী হানায় ১৫০জন ছাত্র ও শিক্ষকের মৃত্যুর পর তাঁদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাবার জন্য ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে এই দিওটিকে সে দেশের শিশুদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

১৬ আগস্টঃ

প্যারাগুয়ে

ninos-de-acosta-nuএ দিনটা হল তাদের ইতিহাসে ‘আকস্টা ন্যু’র যুদ্ধদিবস। তখন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্যারাগুয়ে হেরে গিয়েছে। শত্রুবাহিনী এগিয়ে আসছিল পরাজিত প্যারাগুয়ে রাষ্ট্রপ্রধান সোলানো লোপেজকে গ্রেফতার করবার জন্য। তখন, ১৮৬৯ সালের সেই কালো দিনে নিজের পালানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবার জন্য ছয় থেকে পনেরো বছর বয়সি ৩৫০০ শিশুর এক সেনাবাহিনীকে ২০০০০ সৈন্যের শত্রুবাহিনীর সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন সেই রাষ্ট্রপ্রধান। আকোস্টার বিরাট ময়দানে ১৬ আগস্ট তারিখে  এই যুদ্ধ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ থেকে জানা যায়, তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল ব্রাজিলের সেনারা। অনেক শিশু সেনাদের পা জড়িয়েও ধরছিল। জবাবে কোন দয়া না দেখিয়ে তাদের মাথা কেটে নেয়া হচ্ছিল। এরপর বাচ্চারা তাদের আত্মীয়দের সাথে পালাবার চেষ্টাও করে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।  বিজয়ী সেনারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে এসে গোটা এলাকাটায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

নিহত শিশুদের  স্মৃতিকে সম্মান জানাবার জন্য সে দেশে ও দিনটা এখন শিশুদিবস।

২০ সেপ্টেম্বরঃ

জার্মানি। আগে পূর্ব জার্মানিতে ১ জুন শিশুদিবস হত। দুই জার্মানি মিলে যাবার পর সরকারিভাবে তা ২০ সেপ্টেম্বর হলেও  পূর্ব জার্মানিতে এখনো বেসরকারীভাবে অনেকেই ১ জুন তারিখে শিশুদিবস পালন করেন।

১২ অক্টোবরঃ

ব্রাজিল (সেটা এ দেশের কলম্বাস দিবস, বা কলম্বাসের আমেরিকায় পা দেবার দিন।

এছাড়াও–

৫ মে-জাপান

১ জুন-রাশিয়া, আর সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে তৈরি সমস্ত দেশ

আগস্টের তৃতীয় রবিবার-আর্জেন্টিনা, পেরু

১৪ সেপ্টেম্বর-নেপাল

১ অক্টোবর-শ্রীলংকা

২০ নভেম্বর-আরব দুনিয়া, মিশর, কানাডা, ফ্রান্স, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইজরায়েল

২৫ ডিসেম্বর-কঙ্গো, ক্যামেরুন ও অন্যান্য সেন্ট্রাল আফ্রিকান দেশ

 

Advertisements